শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

কবিতা

কবিতারা আজ দেখি হারিয়েছে ছন্দ 
ঠিক যেন জীবনের দেখি প্রতিবিম্ব 
দেখেশুনে জাগে মনে বহুবিধ দন্দ
কবিতার গায়ে কেন গদ্যের গন্ধ 
কবিতা তো শিল্প সে নয় কোনো অঙ্ক
তাই তার নেই মানা নেই প্রতিবন্ধ 
হোক না সে ছাঁদ ছাড়া না থাকুক ছন্দ 
বাক্যের বিন্যাসে  হয় ভাব যদি ব্যক্ত
লেখকের অনুভূতি যত আছে অদ্য
উপমায় আঁকা হোক নানাবিধ চিত্র। 

স্বদেশ

শেষ সূর্যাস্ত দেখিনি আমি, অবিভক্ত ভারতের,
দেখিনি প্রথম সে সূর্যদয়; স্বাধীন  ভারতের।
 পড়েছি মানুষের লেখা ইতিহাস, স্বাধীনতার। 
অনুভব করিনি আমি জ্বালা, স্বদেশ হারাবার
না, প্রত্যক্ষ করিনি  আমি, কোনো শরনার্থী শিবির 
বা স্বজন হারানো,  ছিন্নমূল হবার ব্যথা সুগভীর। 
এর পর কেটে গেছে অনেক  দিন মাস বছর।
গল্প, গাথায় আর কোনো বৃদ্ধের স্মৃতির পাতায়
তবু উজ্জ্বল সেই  দিনগুলি, আজও অন্ধকার ময়।
দেশ ভাগের ক্ষতে- লেগেছে সময়ের মহৌষধ। 
পালিত হয়েছে স্বাধীনতার অমৃত্ মহোৎসব। 
তবুও কোনো কোনো বিশেষ দিনের উৎযাপনে,
বক্তার বক্তৃতায় অথবা কোন কবিতা বা গানে;
উঁকি মারে সেই সেদিনের ছবি, বিভীষিকাময়।
ভৌগোলিক সীমান্ত ভেঙে, একাকার হতে চায় 
সাতন্ত্র বৈচিত্র্য ভিন্নতা ভুলে আত্মার আত্মীয়তায়।
নতুন এক ভারতের সে এক নতুন সূর্যোদয়, 
হয়তো বা রয়েছে সকলের অলক্ষ্যে প্রতিক্ষায়।

মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩

আমি রাজ পুত্তুর

ভিখারি, এক নেই রাজ্যের রাজা
দিচ্ছেন সাজা সকল প্রজাগনে
আসতে তোমার হয়েছে দেরি কাজে
নিয়ম মেনে বেতন কাটা যাবে
ষষ্ঠ মাসের বেতন পরেছে বাঁকি
বিদ্রোহী মন অন্তরে অন্তরে
মুক্তি পওয়ার এখনো কিছুটা বাঁকি
মন দি তাই একান্ত অকাজে
গজিয়েছে ঘাস পিচ রাস্তার ধারে
চল মেপে আসি কতটা রাস্তা হবে
 নতুন মন্ত্রী পাওয়া গেছে  উপহারে
চলো পষর্দে সামিল করি তাঁরে
মন তবু সেই গভীর পুকুর পারে
যেথা মৎস্য কন্যা রয়েছে অপেক্ষাতে
আর তো মাত্র কয়েকটা দিন বাঁকি
ভিখারি রাজাকে দিয়ে যাব আমি ফাঁকি
দিনগুনি তাই মাখি গায়ে রদ্দুর 
কেউ তো জানেনা আমিও রাজপুত্তুর।

সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩

নিরাশা

সপ্নগুলো আপনি আমায় ছেড়ে,
পাখনা মেলে গিয়েছে দুর দেশে।
ইচ্ছে গুলোর ভাসান দিয়ে এসে,
গা ধুয়েছি কলের ঠান্ডা  জলে।
অনিচ্ছাতেও ফিরতে হবে ঘরে, 
শুনতে হবে নেই রাজ্যের খবর;
গ্যাসের আবার দাম বেড়েছে বুঝি,
মাসকাবারি খরচা বাড়লো আরো।

জয় পরাজয় এখন অতীত জেনো,
অভ্যেস তাই বেঁচে আছি আমি। 
হেরে যাওয়া মানুষ জনের ভিরে,
যেখানে দিনযাপনের যুদ্ধ অবিরত ;
এমনি কোনো চৌরাস্তার মোরে,
ছুটছি কেমন উদভ্রান্তের মতো।
ভির বাসের পাদানি তে পা রেখে,
আগামী দিনের ভোরে ঠিক পৌঁছে যাবো। 

শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩

উত্তর

মাঝে মাঝে মনে হয়, বেড়িয়ে পরি 
উত্তরের খোঁজে। 
যে প্রশ্ন করেনি কেউ, খোঁজে নি
কেউ যার উত্তর। 
খুঁজে ফিরি তারে -রাস্তার মোরে,
প্রত্যন্ত প্রান্তরে।
ভিড়ের মাঝে একাকিত্বের চাদর 
গায়ে জড়িয়ে ;
অদৃশ্য প্রশ্নের সদৃশ্য উত্তর খুঁজি
একান্ত যতনে।
বিনিদ্র রাত জাগি সুপ্ত শহরের বুকে
প্রদীপ্ত আঁধারে। 
নিঃশব্দ কোলাহল শুনি, কান পেতে
যদি খুঁজে পাই;
সেই উত্তর, যা কেউ খোঁজেনি কখনো;
 করেনি জিজ্ঞাসা।
আশায় বাঁধেনি বুক, কখনো পাবে বলে
যে প্রশ্নের  সদুত্তর। 
খুঁজে ফিরি তাই, ব্যস্ততার মুখোশ পরা
একান্ত অবসরে ;
প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহে চাতক, যেমন
খুঁজে ফেরে বৃষ্টি। 
তেমন করেই আমিও খুঁজে ফিরি, সেই
না খোঁজা উত্তর। 
প্রেমের মোড়কে ঘৃণা আর কান্না চাপা-
হাসির কলরোলে,
উদগ্র আগ্রহে বা চরম উদাসীনতায় 
খুঁজি তারে নিরন্তর। 

মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩

ভালো আছি

দুঃখকে বুকে চেপে,
হাসির মুখোশ পরে;
এইবেশ ভালোআছি বল?
আয় তোরা দেখে যা না,
একমনে একটানা-
কি সুখে বাঁধছি এ গান।
কান্নাও কেঁদে মরে,
এই মুখে হাসি দেখে 
ভাবে বসে এক মনে;
এদেহে নেই মোর স্থান। 
দুঃখ রা চাপে চাপে,
ভাবে বসে এক কোনে;
পাথরের রূপ নেবে আজ।

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩

জীবন

অনন্ত সম্ভবনাময় জীবন কিন্তু,
অনন্ত নয়;
নিজের অজান্তেই শুরু, নিজের 
অজান্তেই শেষ হয়।
আমার আমিত্ব ঘিরে ধরে তবু,
আত্মা জড়ায় মায়ায়।
পারিপার্শ্বিক মানুষকে ভীত
হতে শেখায়।
কগুজে শিক্ষা, পারা না-পারার
সীমানা শেখায়।
তবু অনন্তকে কি রোখা যায়?
আপন মহিমায়, 
সকল গন্ডি ভেঙে দিয়ে সে ;
আপনি প্রকাশ পায়।

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

পরিস্থিতি

জানজটে আটকে গাড়ি,
চিন্তার জটে মন।
মুক্তধারার পথ খুঁজে ফিরি,
নিয়ে আশা এক মন।

বিপ্লব আজ ক্ষীণজীবী হায়,
মোচ্ছব পাশে বদ্ধ। 
বিজ্ঞাপনে ঢাকা পরে যায়,
সব কালি মাখা সত্য।

প্রেম ভালবাসা সস্তা ভীষণ, 
শরীরি খেলায় মত্ত।
সার্থের কাছে ব্যাকফুটে আজ,
ভালবাসা মাখা পদ্য।

অনলাইনে  ভালো থাকাটাই-
ভীষণ রকম সত্য।
মনখারাপ আর কষ্ট গুলো,
স্টাটাস কাঁপায় অদ্য।

রোগ হয়েছে ভোগের সঙ্গী,
আনন্দ অতি অল্প।
ঘরে ঘরে দেখি অকারণ সব,
মনখারাপের গল্প।

জীবনধারা রাখতে বজায়,
জীবন রইল পন,
যোগাযোগ যত সুদৃঢ় হয়েছে, 
সংযোগ তত কম।

সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩

মিথ্যে

মিথ্যে আশা, মিথ্যে শ্লোক
বলছে বলুক শুনছে লোক।
মিথ্যে প্রচার, আচার বাহার
ভুলছে লোকে, ভুলুক শোক।
মিথ্যে মেকি হাসির রোল,
মিথ্যে ভালোবাসার বোল-
হৃদয় লাগায় প্রেমের দোল;
মিথ্যে হলেও বিনোদ হোক।
মিথ্যে সুখেই দুঃখ  ভোল;
(যখন) সত্যি বলায় বাঁধছে গোল;
মিথ্যে কথাই হোক প্রবল।

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

অঙ্গিকার

ক্ষইছে অতিত, ভবিষ্যতের ক্ষয়ও স্পষ্ট 
হাজারো আওয়াজের মাঝ খুঁজে পওয়া 
যায়না; প্রয়োজনের শব্দ । 

কঠিন এ সময়ে- টিকে থাকার তাগিদে পিষ্ট
প্রতিদিন ইতিহাস ভেঙে ফেলে, লিখে ফেলি
অপ্রাকৃত প্রসাধনী গদ্য।

অবক্ষয়ের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, নিতান্ত ক্লিষ্ট 
প্রতিদিন বেঁচে উঠি, আশার লাঠি ভর করে;
বিপ্লবের দামামা আজো স্তব্ধ। 

বেঁচে আছি, অনুভবে জানি এ জীবন নষ্ট 
তবু বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব,
আমি আজও অঙ্গিকার বদ্ধ। 

ভালবাসা জলের মতো

ভালোবাসা অনেকটা জলের মতো। জীবন থাকতে অপরিহার্য, আবার বেশি হলে দম বন্ধ, মায় শেষের ঘন্টিও বাজিয়ে দিতে পারে। আবার দেখো ভালোবাসা জলের মতোই ভিন্ন পাত্রে ভিন্নরূপ। ভালোবাসাও সতত বহমান, আবার কখনও একদম স্থির টলটলে, একটু শঙ্কা বা সন্দেহের ঢিল টুপ করে পরলো কি পরলোনা; অমনি ঢেউ তোলে কিনারার খোঁজে। আবার জলের মতোই উবেও যায়,  আজ যাকে ছাড়া চলেনা, কাল তারে মনেই পরেনা। জলের মতোই বাষ্প হয়ে উড়ে গিয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে অন্য কারো তরে। ভালোবাসাও তৃষ্ণা জুড়ায়। শীতল করে শরীর, আবার গরম শেঁক এর মতোই ব্যাথায় উপশম দেয়।কখনও বা টাপুরটুপুর কখনো বা বাঁধভাঙা।  রোজ পরিমাণ মতো পেলে বোঝাও যায় না তারে কিন্তু একদিন একটু কম হোক বুক জ্বলবে আর দীর্ঘদিনের সল্পতায় অনেক জটিল রোগের জন্ম নেয়। ভালোবাসা জলের মতোই অতিরিক্ত হলে মাথা ঘোরে, হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।জলের মোতোই অনেক কঠিন বস্তু ভালোবাসায় দ্রবীভূত হয়।কি আশ্চর্য মিল তাই না। ভালোবাসা অনেকটা জলের মতো বাঁধন হীন পাগল পারা। 

অন্তরাল

সম্পর্কে চৈত্রের রুক্ষতা  ঝরে পড়া স্মৃতি, উড়ায় কালবৈশাখী।  আচমকা মনে জমে মেঘ বৃষ্টি নামে তেড়ে,  ভেজায় দুই আঁখি।  শীতলতার আমেজ দিয়ে উষ্ণতা ফে...