বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩

কারোর জন্য

কারোর জন্য সময় নষ্ট 
কারোর জন্য মনখারাপ 
কারোর জন্য মেজাজ নষ্ট 
কারোর জন্য বদ মেজাজ 
কারোর জন্য বেহিসাবি 
কারোর জন্য হিসাব নিকাশ 
কারোর জন্য এক পৃথিবী 
কারোর জন্য এক আকাশ 
কারোর জন্য রাত জাগা 
কারোর জন্য সুপ্রভাত 
কারোর জন্য বাঁচতে চাওয়া 
কারোর জন্য মরার আশ

হার না মানার গল্প

লজ্জা গেছে মরে আজ,
ভয় গিয়েছে হেরে।
ভাগ্য যখন গেছে ছেড়ে,
বাঁচবো কেনো ম'রে।
দুঃখ যখন বাঁধ ভেঙেছে,
হৃদয় গেছেই ভেঙে। 
অনুভুতি সব একাকার হোক,
সুখ শোক সব ভুলে।
প্রিয়া যদি হলো হন্তা মোর,
বাঁধা কেনো বৃথা ঘর।
প্রেম তবে থাক কবির কথায়,
সংগ্রামে নামা যাক।
সংশয়ে যদি আসে তবু মনে,
অপত্যে ক'রে ভর;
ঋণী কার কাছে এই দেহ মন,
ভাবি বসে বারবার। 
সাথ যদি কেউ দেবে নাই আজ,
একা করে নিয়ে পথ;
মুক্তিকে করে লক্ষ্য  আমার, 
শুরু করি চলা পথ।

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

যাত্রাপথে

ঘন্টা ছয়েক বরাদ্দ প্রতিদিন, যাতায়াতে।
কিছু চেনা মুখ, কতেক অচেনা, টুকরো কিছু হাসি
টুকরো সংলাপ কিছু, হালকা হওয়ায় ভাসে।
কাটানো কিছু সময় তারই মাঝে, একান্ত অবসরে 
ব্যস্ততার মোড়কে, একাকী ভিড়ের মাঝে।
কর্মহীন কর্মব্যস্ততায়, কখনো ঘরের কোনে
মাঠে, ঘাটে, পথে প্রান্তরে, কিছু খুচরো সময় 
বেহিসেবী খরচা করা, কিছু করা অপচয়।
সুদিন নাকি মৃত্যু, কি জানি কিসের অপেক্ষায়।
কিছু কথা, কথায় কথায় মনে থেকে যায়।
টুকরো কিছু ছবি, ধরা পরে কিছু  হারায়, 
কিছু বা দাগ কেটে যায়, চিরকাল মনের আঙিনায়।
কিছু ছেঁড়া হাসি, কান্না কাটি হল্লা হাটি, 
কিছু উড়ো ঝর, ধুলো মাখা রাস্তায়;
ধুলো মাখা শরীর আর মলিন কাপড়ে,
শুয়ে থাকা জীবন্ত লাশ, রাস্তার মোরে,
কিছু মুখ ঢাকা বোরখায়, কিছু বিজ্ঞাপনে;
আরও কত শত ছবি, রঙ-রূপ কথা কিছু ধরা পড়ে
তারও চেয়ে বেশি রয়ে যায় অধরা অথবা ধরা পড়ে
অন্য কোনো খানে অন্য কারো চোখে অন্য রূপে।
চলার পথে, পথে ফুটপাতে কত ছবি রঙিন 
কতক বা সাদা কালো, রূপ নেয় অহরহ 
ছন্দে বাঁধা পড়ে কবিতা, লেখা হয় কত গল্প
মনে হয় যাতায়াতের সময় বুঝি বা বড় অল্প।

প্রকাশ

মুখ আজ মুক তাই, কলমে কাগজে
কথা যত ছিল সবই, লেখা হয়ে ফোটে। 
হাজারো কথার ভীড়ে কথারা হারায়, 
কখনোবা কবিতা কভু গল্প বানায়।
শব্দেরা ঠোঁটে যদি লাইনে দাঁড়ায়, 
জিহ্বা তখনই যেন বিদ্রোহ জানায়।
বিদ্রোহ কোরে রে মন তারি সাথ দেয়,
মুখ তাই মুক থাকে কথা না বাড়ায়। 
অনুভূতি তবু তার, প্রকাশ তো চায়
কবিতার খাতা তাই ছন্দে  ভরায়।
অনুভুতি নানাবিধ প্রকাশিত হয়, 
নানাবিধ কবিতার নানান ধারায়। 

সোমবার, ১ মে, ২০২৩

বর্ষা

আকাশ ঢেকেছে মুখ মেঘের আঁচলে,
প্রভাকর তায় দেখো লুকোচুরি খেলে।
টুপটাপ ঝুপঝাপ  অঝোর  ধারায়, 
শ্রাবণীর ধারা দেখো বারি বর্ষায়।
গ্রীষ্মের অসহ্য দাবদাহ শেষে, 
প্রকৃতি হাসে দেখো বর্ষার বেশে।
কবিবর তাই দেখে আনন্দে মেতে,
কবিতার প্রাণ দেন ছন্দের মিলে।
আনন্দে নেচে ওঠে কৃষকের মন,
এবার নিশ্চয় হবে ভালোই ফলন।
গৃহহীন পথবাসী কষ্ট নিদারুণ,
আকুল হইয়া ভাবে বসে অনুক্ষণ;
কিভাবে করিবে দিন ও রাত্রি যাপন। 
নিভৃতে নির্জনে প্রিয়া পথ চেয়ে রয়,
দূর্যোগে  বুঝি প্রিয় আসিবে ত্বরায়। 
কখনো এমনি ঘনঘোর বরষায়,
নদীর দুকূল ভেঙে প্লাবন ঘনায়।
এইরূপ নানাভাবে নানা ঘটনায়, 
প্রতি বার  বর্ষা আসে আর  ফিরে  যায়। 

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

কবিতা

কবিতারা আজ দেখি হারিয়েছে ছন্দ 
ঠিক যেন জীবনের দেখি প্রতিবিম্ব 
দেখেশুনে জাগে মনে বহুবিধ দন্দ
কবিতার গায়ে কেন গদ্যের গন্ধ 
কবিতা তো শিল্প সে নয় কোনো অঙ্ক
তাই তার নেই মানা নেই প্রতিবন্ধ 
হোক না সে ছাঁদ ছাড়া না থাকুক ছন্দ 
বাক্যের বিন্যাসে  হয় ভাব যদি ব্যক্ত
লেখকের অনুভূতি যত আছে অদ্য
উপমায় আঁকা হোক নানাবিধ চিত্র। 

স্বদেশ

শেষ সূর্যাস্ত দেখিনি আমি, অবিভক্ত ভারতের,
দেখিনি প্রথম সে সূর্যদয়; স্বাধীন  ভারতের।
 পড়েছি মানুষের লেখা ইতিহাস, স্বাধীনতার। 
অনুভব করিনি আমি জ্বালা, স্বদেশ হারাবার
না, প্রত্যক্ষ করিনি  আমি, কোনো শরনার্থী শিবির 
বা স্বজন হারানো,  ছিন্নমূল হবার ব্যথা সুগভীর। 
এর পর কেটে গেছে অনেক  দিন মাস বছর।
গল্প, গাথায় আর কোনো বৃদ্ধের স্মৃতির পাতায়
তবু উজ্জ্বল সেই  দিনগুলি, আজও অন্ধকার ময়।
দেশ ভাগের ক্ষতে- লেগেছে সময়ের মহৌষধ। 
পালিত হয়েছে স্বাধীনতার অমৃত্ মহোৎসব। 
তবুও কোনো কোনো বিশেষ দিনের উৎযাপনে,
বক্তার বক্তৃতায় অথবা কোন কবিতা বা গানে;
উঁকি মারে সেই সেদিনের ছবি, বিভীষিকাময়।
ভৌগোলিক সীমান্ত ভেঙে, একাকার হতে চায় 
সাতন্ত্র বৈচিত্র্য ভিন্নতা ভুলে আত্মার আত্মীয়তায়।
নতুন এক ভারতের সে এক নতুন সূর্যোদয়, 
হয়তো বা রয়েছে সকলের অলক্ষ্যে প্রতিক্ষায়।

মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩

আমি রাজ পুত্তুর

ভিখারি, এক নেই রাজ্যের রাজা
দিচ্ছেন সাজা সকল প্রজাগনে
আসতে তোমার হয়েছে দেরি কাজে
নিয়ম মেনে বেতন কাটা যাবে
ষষ্ঠ মাসের বেতন পরেছে বাঁকি
বিদ্রোহী মন অন্তরে অন্তরে
মুক্তি পওয়ার এখনো কিছুটা বাঁকি
মন দি তাই একান্ত অকাজে
গজিয়েছে ঘাস পিচ রাস্তার ধারে
চল মেপে আসি কতটা রাস্তা হবে
 নতুন মন্ত্রী পাওয়া গেছে  উপহারে
চলো পষর্দে সামিল করি তাঁরে
মন তবু সেই গভীর পুকুর পারে
যেথা মৎস্য কন্যা রয়েছে অপেক্ষাতে
আর তো মাত্র কয়েকটা দিন বাঁকি
ভিখারি রাজাকে দিয়ে যাব আমি ফাঁকি
দিনগুনি তাই মাখি গায়ে রদ্দুর 
কেউ তো জানেনা আমিও রাজপুত্তুর।

সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩

নিরাশা

সপ্নগুলো আপনি আমায় ছেড়ে,
পাখনা মেলে গিয়েছে দুর দেশে।
ইচ্ছে গুলোর ভাসান দিয়ে এসে,
গা ধুয়েছি কলের ঠান্ডা  জলে।
অনিচ্ছাতেও ফিরতে হবে ঘরে, 
শুনতে হবে নেই রাজ্যের খবর;
গ্যাসের আবার দাম বেড়েছে বুঝি,
মাসকাবারি খরচা বাড়লো আরো।

জয় পরাজয় এখন অতীত জেনো,
অভ্যেস তাই বেঁচে আছি আমি। 
হেরে যাওয়া মানুষ জনের ভিরে,
যেখানে দিনযাপনের যুদ্ধ অবিরত ;
এমনি কোনো চৌরাস্তার মোরে,
ছুটছি কেমন উদভ্রান্তের মতো।
ভির বাসের পাদানি তে পা রেখে,
আগামী দিনের ভোরে ঠিক পৌঁছে যাবো। 

শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩

উত্তর

মাঝে মাঝে মনে হয়, বেড়িয়ে পরি 
উত্তরের খোঁজে। 
যে প্রশ্ন করেনি কেউ, খোঁজে নি
কেউ যার উত্তর। 
খুঁজে ফিরি তারে -রাস্তার মোরে,
প্রত্যন্ত প্রান্তরে।
ভিড়ের মাঝে একাকিত্বের চাদর 
গায়ে জড়িয়ে ;
অদৃশ্য প্রশ্নের সদৃশ্য উত্তর খুঁজি
একান্ত যতনে।
বিনিদ্র রাত জাগি সুপ্ত শহরের বুকে
প্রদীপ্ত আঁধারে। 
নিঃশব্দ কোলাহল শুনি, কান পেতে
যদি খুঁজে পাই;
সেই উত্তর, যা কেউ খোঁজেনি কখনো;
 করেনি জিজ্ঞাসা।
আশায় বাঁধেনি বুক, কখনো পাবে বলে
যে প্রশ্নের  সদুত্তর। 
খুঁজে ফিরি তাই, ব্যস্ততার মুখোশ পরা
একান্ত অবসরে ;
প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহে চাতক, যেমন
খুঁজে ফেরে বৃষ্টি। 
তেমন করেই আমিও খুঁজে ফিরি, সেই
না খোঁজা উত্তর। 
প্রেমের মোড়কে ঘৃণা আর কান্না চাপা-
হাসির কলরোলে,
উদগ্র আগ্রহে বা চরম উদাসীনতায় 
খুঁজি তারে নিরন্তর। 

মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩

ভালো আছি

দুঃখকে বুকে চেপে,
হাসির মুখোশ পরে;
এইবেশ ভালোআছি বল?
আয় তোরা দেখে যা না,
একমনে একটানা-
কি সুখে বাঁধছি এ গান।
কান্নাও কেঁদে মরে,
এই মুখে হাসি দেখে 
ভাবে বসে এক মনে;
এদেহে নেই মোর স্থান। 
দুঃখ রা চাপে চাপে,
ভাবে বসে এক কোনে;
পাথরের রূপ নেবে আজ।

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩

জীবন

অনন্ত সম্ভবনাময় জীবন কিন্তু,
অনন্ত নয়;
নিজের অজান্তেই শুরু, নিজের 
অজান্তেই শেষ হয়।
আমার আমিত্ব ঘিরে ধরে তবু,
আত্মা জড়ায় মায়ায়।
পারিপার্শ্বিক মানুষকে ভীত
হতে শেখায়।
কগুজে শিক্ষা, পারা না-পারার
সীমানা শেখায়।
তবু অনন্তকে কি রোখা যায়?
আপন মহিমায়, 
সকল গন্ডি ভেঙে দিয়ে সে ;
আপনি প্রকাশ পায়।

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

পরিস্থিতি

জানজটে আটকে গাড়ি,
চিন্তার জটে মন।
মুক্তধারার পথ খুঁজে ফিরি,
নিয়ে আশা এক মন।

বিপ্লব আজ ক্ষীণজীবী হায়,
মোচ্ছব পাশে বদ্ধ। 
বিজ্ঞাপনে ঢাকা পরে যায়,
সব কালি মাখা সত্য।

প্রেম ভালবাসা সস্তা ভীষণ, 
শরীরি খেলায় মত্ত।
সার্থের কাছে ব্যাকফুটে আজ,
ভালবাসা মাখা পদ্য।

অনলাইনে  ভালো থাকাটাই-
ভীষণ রকম সত্য।
মনখারাপ আর কষ্ট গুলো,
স্টাটাস কাঁপায় অদ্য।

রোগ হয়েছে ভোগের সঙ্গী,
আনন্দ অতি অল্প।
ঘরে ঘরে দেখি অকারণ সব,
মনখারাপের গল্প।

জীবনধারা রাখতে বজায়,
জীবন রইল পন,
যোগাযোগ যত সুদৃঢ় হয়েছে, 
সংযোগ তত কম।

সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩

মিথ্যে

মিথ্যে আশা, মিথ্যে শ্লোক
বলছে বলুক শুনছে লোক।
মিথ্যে প্রচার, আচার বাহার
ভুলছে লোকে, ভুলুক শোক।
মিথ্যে মেকি হাসির রোল,
মিথ্যে ভালোবাসার বোল-
হৃদয় লাগায় প্রেমের দোল;
মিথ্যে হলেও বিনোদ হোক।
মিথ্যে সুখেই দুঃখ  ভোল;
(যখন) সত্যি বলায় বাঁধছে গোল;
মিথ্যে কথাই হোক প্রবল।

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

অঙ্গিকার

ক্ষইছে অতিত, ভবিষ্যতের ক্ষয়ও স্পষ্ট 
হাজারো আওয়াজের মাঝ খুঁজে পওয়া 
যায়না; প্রয়োজনের শব্দ । 

কঠিন এ সময়ে- টিকে থাকার তাগিদে পিষ্ট
প্রতিদিন ইতিহাস ভেঙে ফেলে, লিখে ফেলি
অপ্রাকৃত প্রসাধনী গদ্য।

অবক্ষয়ের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, নিতান্ত ক্লিষ্ট 
প্রতিদিন বেঁচে উঠি, আশার লাঠি ভর করে;
বিপ্লবের দামামা আজো স্তব্ধ। 

বেঁচে আছি, অনুভবে জানি এ জীবন নষ্ট 
তবু বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব,
আমি আজও অঙ্গিকার বদ্ধ। 

ভালবাসা জলের মতো

ভালোবাসা অনেকটা জলের মতো। জীবন থাকতে অপরিহার্য, আবার বেশি হলে দম বন্ধ, মায় শেষের ঘন্টিও বাজিয়ে দিতে পারে। আবার দেখো ভালোবাসা জলের মতোই ভিন্ন পাত্রে ভিন্নরূপ। ভালোবাসাও সতত বহমান, আবার কখনও একদম স্থির টলটলে, একটু শঙ্কা বা সন্দেহের ঢিল টুপ করে পরলো কি পরলোনা; অমনি ঢেউ তোলে কিনারার খোঁজে। আবার জলের মতোই উবেও যায়,  আজ যাকে ছাড়া চলেনা, কাল তারে মনেই পরেনা। জলের মতোই বাষ্প হয়ে উড়ে গিয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে অন্য কারো তরে। ভালোবাসাও তৃষ্ণা জুড়ায়। শীতল করে শরীর, আবার গরম শেঁক এর মতোই ব্যাথায় উপশম দেয়।কখনও বা টাপুরটুপুর কখনো বা বাঁধভাঙা।  রোজ পরিমাণ মতো পেলে বোঝাও যায় না তারে কিন্তু একদিন একটু কম হোক বুক জ্বলবে আর দীর্ঘদিনের সল্পতায় অনেক জটিল রোগের জন্ম নেয়। ভালোবাসা জলের মতোই অতিরিক্ত হলে মাথা ঘোরে, হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়।জলের মোতোই অনেক কঠিন বস্তু ভালোবাসায় দ্রবীভূত হয়।কি আশ্চর্য মিল তাই না। ভালোবাসা অনেকটা জলের মতো বাঁধন হীন পাগল পারা। 

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩

দুহিতার আগমন

ছোট্ট সোনা আসবে বলে,
ছিলাম প্রতিক্ষায় ;
আজ সে এসে দেখা দিলো,
আপন মহিমায়। 
চৈত্র মাসের দ্বিতীয় দিনে,
কৃষ্ণ দশমিতে;
 নন্দিনী মোর জন্ম নিলো,
ভোরের কড়া নেড়ে। 
অনেক অনেক আশীর্বাদে,
শতেক  শুভেচ্ছায়;
সবাই তাকে করলো বরণ,
সোহাগী ভালবাসায়।

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

বর্ষশেষে

বসন্ত উৎসব  শেষে,
শীতের আবেশ গেছে কেটে।
চৈত্রের দাবদাহ জানান দিচ্ছে,
আসছে  বৈশাখ আসছে। 
পুরাতন বছর জানে, তার আসন্ন অবসান। 
শেষ হবার আগে, শেষ বারের মত
তাই জ্বলে ওঠার চেষ্টা আপ্রাণ। 
হঠাৎই ঝোড়ো হাওয়ায়  বেগে,
যেন উড়িয়ে যাবে ;
ঝরা পাতা আর, ধুলো কনার সাথে;
সকল স্মৃতি, না পাওয়ার চিঠি পুরাতন। 
বছরটা এখনও জীবন্ত, বর্তমান;
ভুত হবার অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ। 

জানে চলে যেতে হবে,
ছেড়ে দিতে হবে স্থান। 
অক্লেশে তাই যেন সাজে,
মেখে মুকুলের আঘ্রাণ।
দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে, 
যেন নতুনের নবীন বরণ।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩

উপহার

দুহাত ভরে উপহার দিতে সাধ হয়
কি যে দেবো ভেবে পাইনা 
মন কত কি যে দিতে চায় হায় 
দিতে চেয়ে দেওয়া হয়না
যা ছিল আমার হারিয়েছে জেনো
বাকি  আছে কত, ধন যে লুকানো
থাক আজ, থাক না হয় সে কথা
স্মৃতি টুকু আছে, আছে ভালবাসা 
চোখে দেখা তা তো আর যায়না 
ভাবি বসে একা কি দেবো তোমাকে
যাতে খুশি হবে তুমি, হব খুশি আমি
মিটে যাবে মোর ভাবনা।
তবে উৎকোচ দিয়ে মন কেনা বেচা
জেনো নয়  তো এ মোর বাসনা। 
তবু মন মানে নাকো, চায় দিতে সে তো
ডালি ভরে নজরানা। 
তাই আজি দুই এক কলি মনের মাধুরি
দিলাম তোমায় গাঁথিয়া।

আমি হব

জানা নেই মরব কবে, প্রাণ ভরে বাঁচব তবে
আকাশের বিশালতায়,নিজেকে মেলব ধরে।
নদীর ওই চপল চলার,সঙ্গে তাল মিলিয়ে 
ভাঙব সকল বাঁধা, ছুটব আপন বেগে।
পাহাড়ের মতন হব, সঙ্কটে অটল রব।
সূর্য হয়ে আমি আলো আর তাপ বিলাবো।
করুণার ধারা হয়ে,বৃষ্টি সম পড়বো ঝোড়ে। 
আগুন হয়ে উঠব জ্বলে প্রতিবাদে প্রতিরোধে। 
বাতাস হয়ে রইব আমি সকলের ওই পাঁজরে, 
প্রয়োজনে রুদ্র হব, লহমায় সব উড়াবো।
আমি তো আমি-ই হব, স্বাধীন এক সত্তা সম
আত্মার আত্মীয়তায়, সকলের সমান হব।

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

মুর্তিময়ী

বন্ধ করে দিচ্ছ মুখ,দিচ্ছ ফেলে ঝাঁপ।
মুক্ত কন্ঠ দিচ্ছ আবার উন্নয়নের ডাক।
মোচ্ছব আর উৎসবের করছ ছড়াছড়ি
ঘুষের টাকায় হচ্ছে দেখি চাকরি বিক্রি।
তুমিই কবি আঁকছ ছবি, অদ্ভুত অনাবিল
তোমার ছবি অনেক দামি অনেক টাকা বিল।
সততার আজ প্রতিক তুমি, মুর্তময়ী মাতা
দেশটাকে লুঠছে তবু তোমার শতেক ভ্রাতা।
ইতিহাস আজ যা-কিছু তোমার কাছেই শেখা
ডহর বাবুর বাড়ির লোকের খবর খুঁজে ফেরা।
এমন আরো কতই না গুন, হাজারো প্রতিভা
কতেক জানা আরও,  কতেক রইল অজানা।

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ছিনিয়ে নেবো প্রাপ্যটায়

আকাশ কুসুম কল্পনায়,
দিন কেটেযায় জল্পনায়-
সংস্থানের সল্পতায়,
প্রতিভা আজ অস্তপ্রায়।
মেকি সে এক হৃদ্রতায়,
মজল যে মন মগ্নতায়। 
এখন তারই প্রতিক্ষায়,
দিন কেটে যায় অপেক্ষায়।
নজির বিহীন ভদ্রতায়,
কিম্বা কপট ব্যস্ততায়;
মনটা শুধুই কষ্টপায়।
এবার হয়েই নীরুপায়,
ভাঙব যদি শৃঙ্খলায়;
উদগ্র এক উগ্রতায়।
পুড়িয়ে সকল ভীরূতায়;
আগুন জ্বেলে মুখোশটায়-
করব তাকে নগ্নপ্রায়।
ভুলিয়ে সকল শিষ্টতায়-
ছিনিয়ে নেবো প্রাপ্যটায়।

অন্তরাল

সম্পর্কে চৈত্রের রুক্ষতা  ঝরে পড়া স্মৃতি, উড়ায় কালবৈশাখী।  আচমকা মনে জমে মেঘ বৃষ্টি নামে তেড়ে,  ভেজায় দুই আঁখি।  শীতলতার আমেজ দিয়ে উষ্ণতা ফে...