রবিবার, ২০ মে, ২০১৮

আশঙ্কা

দূরভাষ বেজে ওঠে কোন এক
ব্যাস্ত সকালে, প্রাতরাশের একটু পরে,
স্ত্রীরোগবিশারদ শ্রীমতি সেন
দূরভাষে, ওপারে কোনো এক
পুরুষ কন্ঠ বিচলিত বিব্রত যেন
কিছু বলার অনুমতি খোঁজে একটু
সময় চেয়ে, ব্যাস্ততার মাঝেও
অনুমতি মেলে, ইতস্তত্ কন্ঠ
বলে স্ত্রী সন্তানসম্ভবা তার; এতো
খুসির খবর এতে কি আছে
ইতস্তত্ হবার?  আশঙ্কা ব্যাক্ত
করে পুরুষটি এবার, গর্ভে লালিত
ভ্রুণ, কন্যা সন্তান হবার; বিরক্তি
স্পষ্টহয় শ্রীমতির গলায়, তাতে কি
আছে আমার করার? আবারো
ইতস্তত্ কন্ঠে প্রস্তাব আসে
গর্ভপাত করাবার! অশ্বস্তি বিরক্তি
আর ঘৃণা ভরে প্রশ্ন আসে ভেসে
কেনো?  শুধুই কি মেয়ে বলে?
পুত্র সন্তান যদি থাকত এ ভ্রুণে?
সিক্ত রিক্ত ভিত কন্ঠ বলে ওঠে
দূরভাষের ওপার হতে, পুত্র নয়
কন্যা সন্তান চেয়ে এসেছি বারবার;
কিন্তু আজ বড় অশহায়, সামান্য
সাধারণ মানুষ আমি, ভয় হয়
কি করে বাঁচাব তাকে বর্বর সমাজের
মাঝে, যেখানে আট মাসের ছোট্ট
শিশু ধর্ষিত হয় রাজধানি তে
অথবা আসিফা কিম্বা কাঠুয়া
মেয়েটা খুন হয় রাতের অন্ধকারে।
আর সমাজ প্রতিবার চেয়ে প্রতিকার
মোমবাতি হাতে হাঁটে, গলা ফাটায়
ন্যায় আর মেয়েদের সুরক্ষা চেয়ে।
যেন সুরক্ষা সরকারী অনুদান, তাই
আমার ফুলের কুঁড়ি থাক নিশ্চিন্ত
ঘুমে মাতৃ জঠরে আর হৃদয়ে আমার।
শ্রীমতির কান্না ভেজা কন্ঠ ভেসে আসে
সান্তনা হয়ে, দূর্গাও এসেছিল অসুর
সংহারে পৃথিবীর বুকে; ফুলেরাও
উঠুক ফুটে, দরকারে তরবারি তুলে
দিতে হবে তাদের হাতে অসুর সংহারে।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অন্তরাল

সম্পর্কে চৈত্রের রুক্ষতা  ঝরে পড়া স্মৃতি, উড়ায় কালবৈশাখী।  আচমকা মনে জমে মেঘ বৃষ্টি নামে তেড়ে,  ভেজায় দুই আঁখি।  শীতলতার আমেজ দিয়ে উষ্ণতা ফে...